ডেস্ক নিউজ: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের ভীমকাঠী গ্রামে শান্তনু বড়ালদের পারিবারিক সম্পত্তির অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি অর্পিত সম্পত্তি অবৈধ দখল রোধে জেলা প্রশাসন পিরোজপুরের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্পত্তিটিতে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।
সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, “গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসক, পিরোজপুর এই সম্পত্তির মালিক”। একই সঙ্গে উক্ত সম্পত্তিতে অননুমোদিত প্রবেশ, দখল বা ব্যবহার নিষিদ্ধ বলে সতর্ক করা হয়েছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও আলোচনার জন্ম দেয়। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়, ভীমকাঠী গ্রামের শান্তনু বড়ালদের পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো সরকারি নথি, আদালতের আদেশ বা প্রশাসনিক তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শান্তনু বড়াল ও তার পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ বলেন, “জেলার যেসব সরকারি সম্পত্তি বেদখলে রয়েছে বা দখল সংক্রান্ত জটিলতায় আছে, সেগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করার কার্যক্রম শুরু করেছি। প্রতিটি সরকারি সম্পত্তিতে পর্যায়ক্রমে সরকারি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই জানতে পারেন কোন সম্পত্তি সরকারের মালিকানাধীন।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই না কেউ সরকারি সম্পত্তিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে দাবি করুক বা ব্যবহার করুক। একই সঙ্গে কোনো সম্পত্তি দখল হয়ে থাকলে সেটিও জনগণের কাছে স্পষ্ট করতে চাই। সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণ, অবৈধ দখল প্রতিরোধ এবং প্রকৃত অবস্থা জনসাধারণের সামনে তুলে ধরতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
জেলা প্রশাসক জানান, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভীমকাঠীর অর্পিত সম্পত্তিতে সরকারি মালিকানা উল্লেখ করে সাইনবোর্ড স্থাপনের মাধ্যমে জমিটির আইনগত অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে অবৈধ দখল প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

















