ডেস্ক নিউজ: পিরোজপুর-১, ২ ও ৩ আসনের জনগণের কাছে নির্বাচনের আগে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো বিএনপি সরকার গঠনের পর পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে পিরোজপুরে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বলেশ্বর মোহনা ও আশপাশের এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে সেখানে শিল্প-কারখানা, পাটকল ও গার্মেন্টস শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং উৎপাদিত পণ্য দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, পিরোজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর এবং পিরোজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন দুলাল পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সম্মতি প্রদান করেছেন। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে আলমগীর হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে গোপালগঞ্জ থেকে পাথরঘাটা পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। পাথরঘাটায় আন্তর্জাতিক মানের মৎস্য বন্দর থাকায় রেল সংযোগ স্থাপিত হলে মৎস্যসম্পদ আহরণ, সংরক্ষণ ও বিপণনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি একনেক সভায় এ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
এ সময় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণের অগ্রগতির বিষয়ও তুলে ধরেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। তিনি জানান, নেছারাবাদের সন্ধ্যা নদীর ওপর সেতু, আমড়াজুড়ি সেতু এবং চরখালী সেতু নির্মাণের বিষয়ে জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। সরকার গঠনের পর এসব দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। ইতোমধ্যে আমড়াজুড়ি সেতু নির্মাণের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। অন্য দুটি সেতুর কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আলমগীর হোসেন বলেন, “বিএনপি জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার রাজনীতি করে না। আমরা যা বলি, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করি। সরকারে আসার পর আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলো বাস্তব রূপ পেতে শুরু করেছে।”
তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, কালভার্ট, ক্ষুদ্র অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই অর্থনৈতিক অঞ্চল, রেললাইন সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রকল্পগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


















