ডেস্ক নিউজ: পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের কম্পিউটার অপারেটর (সিএ) ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পগুলোর কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অনুসরণ করা হয়নি। জেলার সকল যোগ্য লাইসেন্সধারী ঠিকাদারের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও চূড়ান্ত লটারিতে জিয়ানগর উপজেলার কোনো ঠিকাদারের নাম ছিল না। বরং অভিযুক্ত কর্মচারী তার আত্মীয়স্বজন ও নিজ এলাকার কয়েকজন ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছেন।
ঠিকাদারদের দাবি, উপজেলা পরিষদের একজন কর্মচারীর কাছে অন্য দপ্তরের ই-জিপি (E-GP) সংক্রান্ত পাসওয়ার্ড থাকার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও এলজিইডির পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় ঠিকাদারদের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ফয়সাল এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফারুক হোসেন বলেন, “এসডিআর পদ্ধতিতে লটারির মাধ্যমে কাজ বণ্টনের কথা থাকলেও জিয়ানগরের কোনো লাইসেন্সধারী ঠিকাদারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ছিল না। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।”
মেসার্স হাওলাদার এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আসলাম হোসেন বলেন, “ইয়াসির আরাফাতের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ছিল। জিয়ানগরে এসেও তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছেন বলে অভিযোগ উঠছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন।”
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইয়াসির আরাফাতের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উপজেলা প্রকৌশলী এমরান আহম্মেদ খান বলেন, “যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে টেন্ডার কলটি বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
জিয়ানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “ই-জিপি টেন্ডারের বিষয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হয়। তদন্তে কিছু অসঙ্গতির তথ্য সামনে আসে। এজন্য টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জানা গেছে, ইয়াসির আরাফাত সম্প্রতি নাজিরপুর উপজেলা থেকে জিয়ানগরে বদলি হয়ে আসেন। নাজিরপুরে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে সরকারি কাজে অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, ফাইল গায়েব, বিশেষ বরাদ্দের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়া ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাকে নাজিরপুর উপজেলা থেকে জিয়ানগরে বদলি করা হয়।
সর্বশেষ জিয়ানগরে এডিপির টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


















