ডেস্ক নিউজ: পিরোজপুরের নাজিরপুরে সন্দেহজনক অবস্থায় তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে তাদের আইনগত অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেল ৩টার দিকে নাজিরপুরের চৌঠাইমহল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নের দাউদপুর এলাকার অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত দুই কিশোরীর সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার ১৪ বছর বয়সী মেহজাবিন আক্তার ঋতুর। পরে ওই দুই কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঋতু পিরোজপুরে আসেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন কিশোরী নাজিরপুরের চৌঠাইমহল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একত্রিত হলে তাদের চলাফেরা সন্দেহজনক মনে হয়। পরে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরপুর থানা পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সন্দেহজনক গতিবিধির কারণে তিন কিশোরীকে পুলিশ হেফাজতে আনা হয়। তাদের পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কী কারণে এক জেলার কিশোরী অন্য জেলায় এসে সমবয়সী দুই কিশোরীকে নিয়ে বাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিল। কেউ কেউ ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
সচেতন মহলের মতে, কিশোর-কিশোরীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারিবারিক নজরদারি বৃদ্ধি এবং এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত করা জরুরি। তারা বলছেন, বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করা হলে ঘটনার অন্তর্নিহিত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো প্রভাব বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হবে।


















