ডেস্ক নিউজ : মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আর নেই। সোমবার (১ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
পরিবারের সদস্য ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তিনি মৃত্যুর কাছে হার মানেন।
১৯৪৩ সালে ভোলা জেলায় জন্মগ্রহণকারী তোফায়েল আহমেদ ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তিনি দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে মাত্র ২৭ বছর বয়সে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং শিল্পমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনরা।
তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন রাজনৈতিক সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সর্বস্তরের মানুষ। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানানো হয়েছে গভীর সমবেদনা।


















