ডেস্ক নিউজ : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় সাত দিনের ব্যবধানে এক রাতে আবারও দুই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতরা হলেন উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সাগর (৩০) ও আব্দুর রশিদ (৩৫)। জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ, আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৮ নম্বর আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত নুর মোহাম্মদের ছেলে আব্দুর রশিদকে শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রোববার (৩১ মে) নেহালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মক্তবখানা এলাকায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
অন্যদিকে, একই ইউনিয়নের দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া এলাকার বাসিন্দা কালু মিয়ার ছেলে সাগর এর মরদেহও রোববার সকালে উদ্ধার করা হয়। তিনি এক সন্তানের জনক ছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিহত দুজনই নিজ নিজ পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী এবং পরিবারের অন্যতম ভরসা ছিলেন। একই রাতে দুইজনকে হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হত্যার কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহ উদ্ধার করে এবং তদন্ত শুরু করে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) পার্থ চক্রবর্তী, পিপিএম বলেন, “রোববার সকাল ৮টার দিকে খবর পাই যে মঠবাড়িয়ার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া এলাকায় রাস্তার পাশে একটি মরদেহ এবং প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আরেকটি মরদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।”
তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডির টিমকে খবর দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, “হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে।”
এদিকে, পরপর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


















