Friday , 26 June 2026 |
  1. খেলা
  2. চাকরি
  3. জীবনযাত্রা
  4. দেশজুড়ে
  5. বাণিজ্য
  6. বাংলাদেশ
  7. বিনোদন
  8. বিশেষ প্রতিবেদন
  9. বিশ্ব
  10. রাজনীতি

গালি নয়, ট্যাগ নয়, একবার তাদের গল্পটাও শুনুন: একজন মফস্বল সাংবাদিকের অদেখা জীবন

বিশেষ প্রতিবেদন: রাত ২টা। চারদিকে গভীর নীরবতা। অধিকাংশ মানুষ তখন ঘুমে। কিন্তু একটি ফোনকল পেয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েন একজন সাংবাদিক। কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কোথাও আগুন লেগেছে, কোথাও আবার কোনো অসহায় মানুষের কান্না পৌঁছেছে তার কানে। নিজের নিরাপত্তা, ঘুম কিংবা পরিবারের কথা না ভেবে তিনি ছুটে যান ঘটনাস্থলে। কারণ সমাজকে সত্য জানানো তার দায়িত্ব।
সকালে যখন মানুষ চায়ের কাপ হাতে সংবাদপত্র পড়ে কিংবা মোবাইল ফোনে খবর দেখে, তখন খুব কম মানুষই ভাবেন সেই খবরটি সংগ্রহ করতে একজন সাংবাদিক কতটা কষ্ট করেছেন।
আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাংবাদিকদের নিয়ে সমালোচনা করা যেন খুব সহজ একটি কাজ হয়ে গেছে। কোনো একজনের ভুল দেখেই পুরো সাংবাদিক সমাজকে “চাঁদাবাজ”, “দালাল” কিংবা আরও নানা অপমানজনক শব্দে আক্রমণ করা হয়। কিন্তু যারা এসব কথা বলেন, তারা কি কখনো খোঁজ নিয়েছেন একজন মফস্বল সাংবাদিক মাসে কত টাকা বেতন পান?
খোঁজ নিয়েছেন কি, তিনি আদৌ প্রতি মাসে বেতন পান কিনা?
খোঁজ নিয়েছেন কি, নিজের সন্তানের স্কুলের বেতন, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধ কিংবা সংসারের বাজার কীভাবে চালান?
বাস্তবতা হলো, দেশের বহু মফস্বল সাংবাদিক আছেন যারা মাসের পর মাস খুব সামান্য সম্মানী পান, আবার অনেকে কোনো নির্দিষ্ট বেতন ছাড়াই কাজ করেন। সংবাদ সংগ্রহের জন্য নিজের মোটরসাইকেলের তেল, মোবাইল বিল, ইন্টারনেট খরচ—সবই নিজের পকেট থেকে বহন করেন। তারপরও তারা কাজ করে যান। কারণ তারা বিশ্বাস করেন, সমাজের সামনে সত্য তুলে ধরা প্রয়োজন।
একজন সাংবাদিক যখন কোনো দরিদ্র মানুষের অসহায়ত্বের গল্প তুলে ধরেন, তখন হয়তো সেই পরিবার সরকারি সহায়তা পায়। কোনো ভাঙা রাস্তার দুর্ভোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে শুরু হয় সংস্কারের কাজ। কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা সংকটের খবর প্রকাশ হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নড়ে বসে। কোনো দুর্নীতির ঘটনা প্রকাশ হলে জবাবদিহির মুখে পড়েন দায়িত্বশীলরা।
এসব সাফল্যের গল্প খুব কমই আলোচনায় আসে।
কিন্তু কোনো একজন সাংবাদিক ভুল করলে, কিংবা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো অসাধু ব্যক্তি অপরাধ করলে মুহূর্তেই পুরো সাংবাদিক সমাজ কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যায়।
এটা কি ন্যায়সঙ্গত?
একজন শিক্ষক ভুল করলে কি সব শিক্ষক খারাপ হয়ে যান? একজন ডাক্তার ভুল করলে কি পুরো চিকিৎসক সমাজকে দোষী বলা হয়? একজন ব্যবসায়ীর অনিয়মে কি সব ব্যবসায়ী অপরাধী হয়ে যান?
তাহলে কয়েকজনের কারণে কেন পুরো সাংবাদিক সমাজকে বিচার করা হবে?
সাংবাদিকদের জীবন বাইরের মানুষের কাছে যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়। ঈদের দিন, পরিবারের আনন্দের মুহূর্ত, সন্তানের জন্মদিন কিংবা কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান—অনেক সময়ই তারা উপস্থিত থাকতে পারেন না। কারণ তখন কোথাও না কোথাও ঘটছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যার সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিদিন দুর্ঘটনায় নিহত মানুষের লাশ, স্বজন হারানোর কান্না, নির্যাতিত মানুষের আর্তনাদ, আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ি কিংবা দুর্যোগে বিপর্যস্ত মানুষের অসহায়ত্ব দেখতে দেখতে অনেক সাংবাদিক নিজের অজান্তেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। কিন্তু তাদের কান্না কেউ দেখে না। তাদের কষ্ট নিয়ে কেউ সংবাদ লেখে না।
একজন সাংবাদিকেরও পরিবার আছে, স্বপ্ন আছে, অভাব আছে, কষ্ট আছে। তিনিও মানুষ। কিন্তু সমাজের জন্য অন্যের গল্প বলতে বলতে নিজের গল্পটাই অনেক সময় অজানা থেকে যায়।
অবশ্যই সাংবাদিকতার আড়ালে কোনো অনৈতিক কাজের সুযোগ নেই। যারা অপরাধ করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা হওয়া উচিত। কিন্তু কয়েকজনের ভুলের কারণে হাজারো সৎ, পরিশ্রমী ও নির্যাতিত সাংবাদিককে অপমান করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বরং সময় এসেছে সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন, পেশাগত নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করার। কারণ একজন সাংবাদিক আর্থিক ও সামাজিকভাবে নিরাপদ থাকলে তিনি আরও স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশ করতে পারবেন।
সমাজের কাছে আজ শুধু একটি অনুরোধ—গালি দেওয়ার আগে একবার একজন সাংবাদিকের জীবনের গল্পটা শুনুন। একবার জিজ্ঞেস করুন, তিনি কেমন আছেন। মাস শেষে তার সংসার কীভাবে চলে। কত রাত না ঘুমিয়ে, কত ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে, কত অপমান সহ্য করে তিনি আপনার জন্য খবর সংগ্রহ করেন।
হয়তো তখন বুঝতে পারবেন, সংবাদপত্রের একটি ছোট খবরের পেছনে লুকিয়ে থাকে একজন মানুষের অসীম ত্যাগ, সংগ্রাম আর অদৃশ্য কান্না।
সাংবাদিকরা নিখুঁত নন, তারা মানুষ। কিন্তু সত্যের জন্য তাদের এই নিরন্তর সংগ্রাম, নীরব ত্যাগ এবং দায়িত্ববোধই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই তাদের শুধু সমালোচনা নয়, প্রাপ্য সম্মানটুকুও দেওয়া উচিত।
কারণ দিনের শেষে একজন সৎ সাংবাদিক নিজের জন্য নয়, সমাজের জানার অধিকার রক্ষার জন্যই কলম ধরেন। আর সেই কলমই অনেক সময় অসহায়ের আশ্রয়, নির্যাতিতের কণ্ঠস্বর এবং ন্যায়বিচারের প্রথম ধাপ হয়ে ওঠে।

লেখকঃ মোঃ নাঈম তালুকদার

সাধারণ সম্পাদক, পিরোজপুর সাংবাদিক ইউনিয়ন।

সর্বশেষ - সর্বশেষ

আপনার জন্য নির্বাচিত

জেলা পরিষদ এর প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন কে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান পিরোজপুর জেলা বাস ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দরা

ইসলামী ব্যাংকের পাচারকৃত অর্থ ফেরতের দাবিতে পিরোজপুরে মানববন্ধন

পাকা চুল ঢাকতে ব্যবহার করুন আমলকী

ডিজিটাল ভূমি সেবায় নতুন দিগন্ত: পিরোজপুরে মেলা শুরু ১৯ মে

নায়িকা-গায়িকাদের কেউ পাননি বিএনপির মনোনয়ন

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদের পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী আকনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম সাইদুল ইসলাম কিসমত 

গালি নয়, ট্যাগ নয়, একবার তাদের গল্পটাও শুনুন: একজন মফস্বল সাংবাদিকের অদেখা জীবন

নাজিরপুরে অবৈধ দখল ঠেকাতে অর্পিত সম্পত্তি জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে, জমিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা

মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তোফায়েল আহমেদের চিরবিদায়

নাজিরপুরে যুবদলের সভাপতি পদে আলোচনায় সাবেক ছাত্রনেতা মাজেদুল কবির।