ডেস্ক নিউজ: বহুল প্রতীক্ষিত ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নতুন ভবনে চলতি মাসের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল। তবে আধুনিক অবকাঠামো যুক্ত নতুন ভবন চালু হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল না থাকায় স্বাস্থ্যসেবার মান কতটা উন্নত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলার সাধারণ মানুষ ও সেবাপ্রার্থীরা।
জানা গেছে, বর্তমানে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ রয়েছে ৬২টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন চিকিৎসক। ফলে ৪৬টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। সীমিত সংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
অন্যদিকে, নতুন ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জন্য ১৭৭ জন চিকিৎসকের পদ সৃজন করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে নতুন ভবনের কার্যক্রম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক সংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মতিউর রহমান বলেন, “বর্তমানে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে মাত্র ১৬ জন চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। তারপরও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি। চলতি মাসের মধ্যেই নতুন হাসপাতাল ভবনের চারটি ফ্লোর লিফট ছাড়াই চালু করা হবে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি থেকেই যাচ্ছে। নতুন ভবন চালু হলে বিদ্যমান জনবল দিয়ে সেবা দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “নতুন হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগের বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। আশা করছি দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, নতুন ভবন ও আধুনিক অবকাঠামো স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। তাদের দাবি, ভবন উদ্বোধনের পাশাপাশি দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও জনবল সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করা না গেলে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল কেবল একটি বড় ভবন হিসেবেই থেকে যাবে। তাই হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর আগেই চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


















