ডেস্ক নিউজ: পিরোজপুর পৌর শ্মশানে চুরি, মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১ জুন) ভোররাত ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে শ্মশান প্রাঙ্গণে গিয়ে লোকজন মন্দির ও শ্মশানের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
পৌর শ্মশান কমিটির সভাপতি সুনীল চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান শ্মশান প্রাঙ্গণের কালী মন্দিরে স্থাপিত শিবঠাকুরের প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙা প্রতিমার অংশ বাইরে এনে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শ্মশানের প্রধান ফটকও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
তিনি বলেন, মন্দিরের প্রণামী বাক্স থেকে আনুমানিক দুই থেকে তিন হাজার টাকা চুরি হয়েছে। পাশাপাশি সৎকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীও নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, পৌর প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন এবং মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “পিরোজপুরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।”
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি ধর্মীয় উপাসনালয় ও শ্মশানকে লক্ষ্য করে সংঘটিত এ ধরনের ঘটনা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য উদ্বেগজনক।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

















