ডেস্ক নিউজ : পিরোজপুর সদর উপজেলার কলাখালী ইউনিয়নে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আয়োজিত সালিশ বৈঠক শেষে ফেরার পথে প্রতিপক্ষের হামলায় চারজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৩ জুন) দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে বের হওয়ার পর দাউদপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়নের গজালিয়া গ্রামের মতিয়ার রহমান হাওলাদার ও কেরামত আলী শিকদার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
বুধবার দুপুরে কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিস্টারের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে ইউনিয়ন পরিষদ ত্যাগ করার পর দাউদপুর বাজারের একটি দোকানের সামনে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এ ঘটনায় মতিয়ার রহমান হাওলাদার (৬৬), মোহাম্মদ আল আমিন হাওলাদার (৪৪), শহিদুল ইসলাম (৫৫) ও রাসেল হাওলাদার (৩৫) আহত হন।
আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, সালিশ বৈঠক শেষে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বের হওয়ার পর আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আল আমিন হাওলাদার ও রাসেল হাওলাদারের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে।
আহতদের পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আল আমিন হাওলাদারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় পাঠানো হয়। রাসেল হাওলাদারের মাথায় আটটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতরা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেরামত আলী শিকদার। তিনি বলেন, “কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ নিজেরাই নিজেদের ওপর হামলা চালিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে দোষারোপের চেষ্টা করছে।”
কলাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিস্টার বলেন, বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের উদ্দেশ্যে বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। বৈঠক শেষে এমন ঘটনা দুঃখজনক।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

















